ঢাকাWednesday , 17 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. বন ও পরিবেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আ’লীগের চিহ্নিত ক্যাডার হাফিজ-পর্ব ১

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সাম্প্রতিক সময়ে লঙ্কা কাণ্ডে একের পর এক আলোচিত ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান (হাফিজ)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার বলয়ে থেকে তিনি বছরের পর বছর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হাফিজুর রহমান ১৯৯৭ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,কালের আবর্তে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর এলাকায় তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। সে সময় তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং প্রভাব বিস্তারের মতো নানা অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

সরেজমিনে জানা যায়, হাফিজুর রহমানের নিজ গ্রাম পারিলা। একই গ্রামের বাসিন্দা হাজী মো. শামসুল হক দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

শামসুল হক অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে তাদের পরিবারের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন শুরু হয়। তার দাবি, নির্বাচনের পরদিন তার ছেলে মোশারফ হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনের পর ভোরে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং নারীদেরও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। হামলায় তার ছেলেরা গুরুতর আহত হন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

শামসুল হকের ভাষ্য, ওই সময় প্রাণভয়ে পরিবার নিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর গ্রাম ছাড়া থাকতে হয়েছিল। তার দাবি, গ্রামের সম্পদ ভোগদখল করা হয় এবং পরে গ্রামে ফিরতে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য হন। এর সব কিছুর মূল হোতা ছিল হাফিজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক গ্রামবাসী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং ঐ সময়ের একাধিক গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দেখে আরো নিশ্চিত হওয়া যায়।

নির্যাতনের শিকার পরিবারের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাসান ইমাম ফারুক সুমন বলেন, “২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনের পর শামসুল হাজীর পরিবারের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই তারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে আমরা মনে করি।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানের পরবর্তী পর্ব প্রকাশ করা হবে।

dailyalochitosangbad