নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাস রাঙ্গামাটি জেলার কৃতি সন্তান। তিনি ৩৮ ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হন। নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মাধ্য দিয়ে কর্ম জীবন শুরু করেন। সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতায় মাত্র ৩.৫ বছরে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায়। সেখান থেকে বদলি হয়ে আসেন বর্তমান কর্মস্থল পুঠিয়া উপজেলায়।
“মানব সেবা পরম ধর্ম”—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিবু দাস। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করাই প্রকৃত মানবতার পরিচয়।
শিবু দাস বলেন, “সমাজে প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। শুধু নিজের ভালো থাকার চিন্তা না করে আশপাশের মানুষের সুখ-দুঃখের কথাও ভাবতে হবে। একজন মানুষের সামান্য সহযোগিতাও অন্য একজনের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “মানবসেবা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের পরিচয় সবার আগে মানুষ। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা কিংবা দুঃসময়ে কাউকে সাহস দেওয়াও মানবসেবার অংশ। সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
বর্তমান সময়ে সমাজের নানা স্তরে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায়, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সবার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি। শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করাই মানবসেবা নয়; সময় দেওয়া, ভালো কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা এবং একজন মানুষকে তার অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ সেবা বলে মনে করেন এই সরকারি কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “মানবিক মূল্যবোধ একটি সুন্দর সমাজের ভিত্তি। নতুন প্রজন্মকে ছোটবেলা থেকেই মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণরা যদি স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজের অনেক সমস্যা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।”
শিবু দাস আরও বলেন, “মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য বড় কোনো সুযোগের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য ও অবস্থান থেকেই মানবসেবার কাজ শুরু করা যায়। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া, বিপদে পড়া কাউকে সহযোগিতা করা কিংবা কোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—সবই মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে যদি নিজের অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের জন্য কিছুটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও মানুষের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিবু দাসের বক্তব্যে উঠে আসে, মানবসেবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা না করে মানুষের জন্য কাজ করাই প্রকৃত সেবা। কারণ মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই মানবিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত।
তাঁর মতে, “মানব সেবা পরম ধর্ম”—এটি শুধু একটি বাক্য নয়, বরং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও ভালোবাসার একটি মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধ সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
স্থানীয়রা বলেন, “শিবু স্যার কর্মের মাধ্যমে ইতিমধ্যে উপজেলাবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি আমাদের কাছে মানবিক এসি ল্যান্ড হিসেবে অধিক পরিচিত। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে যে ভাবে জনকল্যাণে কাজ করেন তা প্রশংসার দাবিদার। আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মাদক নির্মূল, পরিবেশ রক্ষা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর অবদান।”
সকল সরকারি কর্মকর্তা শিবু দাসের মত সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল হবেন এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

