ঢাকাThursday , 2 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গাপুরে অর্থের বিনিময়ে পদ বানিজ্য- আ’লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অনুমোদন দিয়েছেন, জেলা,উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেত্রীবৃন্দ। কমিটি প্রকাশের পরপরই শুরু হয় নানা গুঞ্জন, জন্ম নেয় বিতর্কের। ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে চিহ্নিত আ’লীগকে পুনর্বাসন করা হয়েছে ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটিতে।

১লা জুলাই (বুধবার) অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। অনেক তথ্য প্রমাণ চলে আসে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে। স্থানীয়দের দাবি, যারা বিগত ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় না থেকে আ’লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তাদের নাম দেওয়া হয়েছে কমিটিতে। কমিটি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগের অন্তনেই।

উপজেলার অধিক সমালোচিত ইউনিয়ন জয়নগর। এখানে বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা বেশি বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের। অথচ এই ইউনিয়নে বাড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক জোবায়েদ হোসেনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের একাধিক ওয়ার্ডে ২ টি করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সান্টু ও অন্যটি সাধারণ সম্পাদক জাকির অনুমোদন দিয়েছেন।

দ্বিমুখী কমিটি ঘোষণার ফলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে, গত ১৮ জুন ইউনিয়ন ও উপজেলা নেত্রীবৃন্দ ৯নং ওয়ার্ড, জয়নগর গ্রামে বসে জিন্নাতকে সভাপতি এবং হাফিজুরকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন।

শুরু হয় বিস্তর সমালোচনা। ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, “সভাপতি জিন্নাত চিহ্নিত আ’লীগ। সে ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক রিপনের মামা। রিপন চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। সে ৫ তারিখের পূর্বে বিএনপির রাজনীতি করেনি। তার বিরুদ্ধে ইতি পূর্বে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের লিখিত অভিযোগ করেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। সে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের দেহরক্ষী। প্রভাব খাটিয়ে অর্থের বিনিময়ে জিন্নাত কে সভাপতি বানিয়েছে। রিপন ও জিন্নাতের অপকর্মের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে।”

অপরদিকে তাদের দাবি, “সাধারণ সম্পাদক হাফিজুরের পিতা বিএনপির রাজনীতি করতেন। হাফিজুর ৫ তারিখের পারের বিএনপি। পূর্বে সে ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের সহচর ছিল। সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আছে।”

এই নিয়ে কথা বলতে জিন্নাতের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন না তুলায় আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কথা হয় হাফিজের সাথে তিনি স্বীকার করে বলেন, “২টি কমিটি ছিল, নিজেরা সমঝোতা করে নিয়েছি। আমি পদ পেতে কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছি। আমাকে সভাপতি পদ দিবে মর্মে তাঁরা অনেকেই টাকা নিয়েছেন। কারা টাকা নিয়েছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি তাদের নাম অকপটে বলেছেন।” কে বা কারা পদ বানিজ্য করেছেন সেই তথ্য প্রমাণ সংরক্ষিত। পরবর্তীতে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।

উপজেলার নির্যাতিত, আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকা নেতা-কর্মীরা বলেন, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপি মূল দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ১২টি।সংগঠনের নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন না করে প্রত্যয়ন দিয়ে, অর্থের বিনিময়ে পদ দিয়ে আ’লীগকে পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে একটি চক্র। এরা কখনোই দলের ভাল চায় না।”

উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হোক। সেই সাথে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা তাদের প্রাণের দাবি।

dailyalochitosangbad