ঢাকাMonday , 14 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে ‘নারী অপরাধ চক্র’-এর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

দৈনিক বিজয় ২৪
September 14, 2026 9:16 pm
Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

রাজশাহী মহানগরী ও আশেপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ‘নারী অপরাধ চক্র’ সাধারণ মানুষকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, সিসি ক্যামেরায় গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং ভুয়া দলিলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের তালিকায় সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী,চিকিৎসক,আইনজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

সম্প্রতি এই চক্রের মূল হোতা মোসাঃ নারগিস আক্তার (৪৫) ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে, পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আরএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) এবং ডিবি পুলিশের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

অনুসন্ধান ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।নারগিস রাজশাহী শাহমখদুম থানার সন্তোষপুর গ্রামের নাজিমউদ্দিন শেখের মেয়ে। তার গ্রামের বাড়ি তানোর উপজেলা পাড়িশো গ্রামে। নারগিস ও তার চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। চক্রের অন্য সক্রিয় সদস্যরা হলেন— শিরিন, মারিয়া খাতুন পারুল, মজিদ দাদু, ডা.নাদিম, মুহুরী রবিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট শাহিন এবং সাবেক কমিশনার মকছেদ সহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।

এই চক্রের মূল লক্ষ্য সমাজের প্রভাবশালী ও বৃত্তবান ব্যক্তিবর্গ। প্রথমে চক্রের নারী সদস্যদের মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলা হয়। পরবর্তীতে কৌশলে তাদের নারগিসের সন্তোষপুরের বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। ওই বাড়ির বাহির থেকে বিভিন্ন কক্ষে গোপনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরায় আপত্তিকর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে এই ভিডিওগুলো দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। চক্রের কথামতো বিপুল পরিমাণ অর্থ না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি অথবা আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারগিস নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ বার তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পরিবর্তন করেছেন, যেখানে নাম, বয়স ও স্বামীর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এই অবৈধ ব্ল্যাকমেইলের টাকায় তিনি বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। সন্তোষপুরে ৬ কাঠা জায়গার ওপর ৭ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৩ ইউনিটের একটি ৩ তলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির পাশে আরও ২ কাঠা জমি এবং তানোরের ‘বিসমিল্লাহ হিমাগার’-এর উত্তর পাশে প্রধান সড়কের সাথে প্রায় কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৫২ শতক জমি রয়েছে তার। জালিয়াতি করে নওদাপাড়া ভগরইল মোড়ে ‘ওএস কর্পোরেশন’ নামে ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ঢাকায় ১.৫ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট এবং প্রায় ২০ লক্ষ টাকার আসবাবপত্র হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নারগিস আক্তারের মেয়ে জামাতা মোঃ হুমায়ুন কবির অভি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন ছিলেন এবং নারগিস নিজে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র লিটনের স্ত্রী রিনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। ৫ই আগস্ট (২০২৪) সরকার পতনের পর নারগিসের জামাতা সপরিবারে অষ্ট্রেলিয়া পালিয়ে যায়।

বিদেশে যাওয়ার সময় জামাতা হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে ১৮টি ব্লাঙ্ক (ফাঁকা) স্ট্যাম্পে ভূয়া স্বাক্ষর করিয়ে নেন নারগিস। পরবর্তীতে এই স্ট্যাম্পগুলো ব্যবহার করে ভুয়া দলিল তৈরি করে জামাতার কোটি কোটি টাকার সম্পদ নিজের নামে লিখে নেন তিনি। তার জালিয়াতি ও সকল অপকর্মের সাথে চক্রের সকল সদস্য সরাসরি জড়িত। মূল্যবান কাগজপত্র সহযোগী শিরিনের হেফাজতেই রাখা আছে বলে জানা গেছে। শিরিনের পরিবার সহ থাকার জন্য নারগিস তার বাড়ির ছাদে ২টি রুম দিয়েছে এবং শিরিনের স্বামীকে একটি অটো রিক্সা কিনে দিয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলা। আরেক সহযোগী পারুল কে থাকার জন্য ২য় তলায় একটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন এবং নিচ তলায় একটি ফ্ল্যাটে জালিয়াতির সকল মালামাল রাখা আছে।

বর্তমানে নারগিসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা ও আদালতে মোট ১৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর থানায় ৪টি, শাহমখদুম থানায় ৩টি, রাজশাহী কোর্টে ৪টি, পল্লবী থানায় (ঢাকা) ১টি এবং দিনাজপুর কোর্টে ১টি মামলা।

অভিযোগ বিষয়ে নারগিসের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার আপন বড় ভাই শিক্ষক মঈন এবং বড় বোনের জামাতা শিক্ষক আজাহার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “নারগিসের এই ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে পরিবারের অন্য কারও কোনো সম্পর্ক বা সমর্থন নেই। আমরা অনেকেই আগেই তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। নারগিস ৫ টি বিয়ে করেছেন বলে জানান বোন জামাই আজাহার।”

ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই চক্রের মূল হোতা নারগিস আক্তার ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে এভাবে সর্বস্বান্ত হতে না হয়।

পরবর্তীতে আমরাই তুলে ধরবো কারা এই চক্রের জালে নিঃস্ব হয়েছেন। অনুসন্ধান চলমান….

dailyalochitosangbad