নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আনুলিয়া বিলে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে সফল লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
জানা যায়, তিনি প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করায় মাটি খেকো দালাল চক্র পুনরায় খনন কার্য শুরু করে।
১৫ই আগষ্ট (শনিবার) দুপুরে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৪ টি এস্কেভেটর (ভেকু) ও ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় করার মাধ্যমে উপজেলা জুড়ে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়ন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, “চলতি মৌসুমে স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহল রাজশাহী শহরের কথিত ফেসবুক সাংবাদিক ও দালাল চক্রকে হাত করে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অবৈধ পুকুর খনন শুরু করে।”
কথিত সাংবাদিক ও দালাল চক্রে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজশাহীর কাজেম বাবু ও রাজ্জাক নামের দুই ব্যক্তি নাম।
স্থানীয়দের দাবি, “কাজেম বাবু নামের এক সাংবাদিক ও রাজ্জাক নামের ব্যক্তি কালো রং এর পুরাতন প্রাইভেট কার নিয়ে পুকুর দেখতে আসে। সম্প্রতি তারা দুজন মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দুর্গাপুরের কিছু সাংবাদিকে হাত করে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আনুলিয়া বিলে প্রায় ৬০ একর (১৮০ বিঘা) তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়িত্ব নিয়ে খনন কার্য শুরু করে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই বলেন, “আমাদের গ্রামের পুকুর খনন উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসতেই একাধিক বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন লাইলা নূর তানজু স্যার। অর্থদণ্ড, নিয়মিত মামলা এবং জেল দিয়েছেন। এছাড়াও, এস্কেভেটর (ভেকু) ও লোভেট জব্দ করে নিয়ে গেছেন।”
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়,”মোটা অংকের অর্থ দন্ড আদায় করে মুচলেকা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় লোভেট ও ভেকু ছাড়া হয়েছে।”
সূত্র বলছে, তবুও থামছে না এই চক্রের দৌরাত্ম্য। তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে হন্নি হয়ে ধরনা দিচ্ছেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন লিখিত মিথ্যা অভিযোগ। অথচ উল্লেখিত দুই ব্যক্তি ঐ গ্রাম, ইউনিয়ন বা দুর্গাপুর উপজেলার নাগরিক নন। তারা জানেন না, এই পুকুর খনন করা হলে আশে পাশের ৮ টি গ্রামে জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। কয়েক হাজার কৃষক নিঃস্ব হবেন পান বরজ পানিতে তলিয়ে, ব্যাহত হবে কৃষি। তাই কৃষকরা অনেক আগেই জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছিলেন পুকুর বন্ধের জন্য।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সম্পর্কে জানতে কথা হয় লায়লা নূর তানজুর সাথে। তিনি বলেন, “ফসলি জমিতে অনুমতি ছাড়া বা অবৈধভাবে পুকুর খনন করা খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও গ্রামীণ জনপদের স্বাভাবিক পানিনিষ্কাশনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। কৃষি ও কৃষি ভূমি রক্ষার্থে ডিসি স্যারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে কোন ক্রমেই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে দেওয়া যাবে না। উপজেলার কোথাও অবৈধ পুকুর খনন হলে ‘বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০’ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানানো হয় উপজেলা প্রশাসনকে। তারা বলেন, “আ’লীগের ১৭ বছর শাসন আমলে পুকুর বন্ধে যা দেখিনি এসি ল্যান্ড লায়লা নূর তানজু আমাদের তা দেখিয়েছেন। সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সৎ ও সাহসী এবং সদিচ্ছা থাকলে দেশের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব। যার বাস্তব উদাহরণ লায়লা নূর তানজু।”

