নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন শুরু হয় মৌসুমের শুরুতে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে লাগাম টেনে ধরে রাখতে সক্ষম প্রশাসন।
ধারাবাহিক অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে হয়েছে নিয়মিত মামলা, করেছেন অর্থদণ্ড, দিয়েছেন কারাদণ্ড। এছাড়াও, এস্কেভেটর (ভেকু) ও ব্যাটারির নিষ্ক্রিয় করা এবং ব্যাটারি জব্দ করেন প্রশাসন। বিশেষ করে পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁদের আইনি পদক্ষেপের জন্য জেলা জুড়ে প্রশংসিত। তারপরও থামছে না এই মাটি খেকো চক্রের দৌরাত্ম্য।
বুধবার (২২ জুলাই) রাতে শিবু দাস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংবাদ পান অবৈধ পুকুর খনন চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভির রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেমে পড়েন অভিযানে। এই সময় উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বদোপাড়া ও নান্দিপাড়া এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অত্যন্ত দুর্গম ও বৃষ্টির কারণে দুর্বৃত্তরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে সুকৌশলে দ্রুত সটকে পড়ে।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে আবাদযোগ্য কৃষিজমির মাটি কাটার সাথে যুক্ত চারটি এস্কেভেটর যান্ত্রিকভাবে অকেজো করে দেয়া হয়েছে এবং ফসলি জমির টপসয়েল কাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অনুমতি ব্যতীত জমির শ্রেণী পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নাই।
অভিযান প্রসঙ্গে শিবু দাস বলেন, “কৃষি জমি সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন বা দুই ফসলি জমিতে যেকোনো ধরনের প্রকল্প বা স্থাপনা নির্মাণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো উন্নয়নের জন্য জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না এবং সরকারি পতিত জমিতে আবাসন নির্মাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলার কোথাও অবৈধ পুকুর খনন হলে “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০- Laws of Bangladesh. অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হবে। মাটি কাটার সাথে যুক্ত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, শিবু দাসের সততা,নিষ্ঠা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ দেখে উপজেলা বাসির নিকট তিনি আইডল।

