ঢাকাThursday , 16 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গাপুরের ভূমি সেবায় তানজুর কঠোর নজরদারিতে ফিরেছে স্বচ্ছতা-সূচনা নতুন দিগন্তের

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

এক সময় ভূমি অফিস মানেই ছিল ভোগান্তি আর দালালের দৌরাত্ম্য। সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র কয়েক মাসেই তিনি উপজেলার ভূমি সেবাকে করেছেন ঘুষ মুক্ত, দ্রুত ও জনবান্ধব।

তিনি দুর্গাপুর উপজেলা ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখে যোগদান করেন। তারপর থেকেই তার কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ উদ্যোগের কারণে দুর্গাপুর মানুষ এখন হয়রানি ছাড়াই ভূমি সেবা পাচ্ছেন।

যোগদানের পরপরই তিনি উপজেলা ভূমি অফিসের পাশাপাশি লক্ষণখলসি, সিংগাহাট, উজানখলসি, বখতিয়ারপুর এই ৪ ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর নির্দেশনায় প্রতিটি অফিসে সেবার ফি ও ধাপের তালিকা টাঙ্গানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে অভিযোগ বক্স। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন তিনি প্রায় প্রতি মাসেই প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে কিনা তা নিজেই যাচাই-বাছাই করেন।

এই কঠোর মনিটরিং এর ফলে উপজেলার সব ভূমি অফিস এখন দালাল মুক্ত ও ঘুষ মুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সেবা গ্রহীতারা বলেন, লাইলা নূর তানজুর স্যারের কাজের ধরণই আলাদা। তিনি শুধু ফাইল সই করেন না, মাঠে নেমে সমস্যার সমাধানও করেন। সিংগাহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা আজিজুল ইসলাম বলেন, “আগে নামজারির জন্য ৪/৫ বার আসতে হতো এখন ১ বার গেলেই কাজ হয় যায়। ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের জিজ্ঞাস করেন কোন সমস্যা আছে কিনা, বাড়তি টাকার কথা তো এখন কেউ মুখেও আনে না।”

লক্ষণখলসি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মোঃ রহিদুল ইসলাম, আব্দুল হালিম, শরিফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম বলেন, “উনি নারী হয়েও যে সাহস ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন তা বিরল। ভূমি অফিসের পরিবেশ বদলে গেছে।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, “লাইলা নূর তানজু অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সাহসী ও স্বচ্ছ একজন কর্মকর্তা। কোন অনিয়মকে তিনি প্রশ্রয় দেন না। তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহিতা বেড়েছে বহুগুণ।”

দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন, “ভূমি হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। আমি চাই প্রতিটি নাগরিক যেন মাথা উঁচু দাঁড়ায়,হয়রানি ছাড়া সেবা পান, অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান বলেন, “মান্যবর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমি সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি মুক্ত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমি, জেলা প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিয়মিত পরিদর্শন করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে দ্রুত স্বচ্ছ ও দালালমুক্ত সেবা দেওয়া। ভূমি সেবার মান বাড়াতে এবং সকল ধরনের অনিয়ম রোধে আমাদের এই মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ‌ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে দুর্গাপুরকে এখন জেলার অন্যান্য উপজেলার রোল মডেল হিসেবে দেখছেন।”

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, “একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সদিচ্ছা ও কঠোর তদারকি পারে একটি প্রতিষ্ঠানের চেহারা পাল্টিয়ে দিতে, যা লায়লা নূর তানজু নেতৃত্বে দুর্গাপুর উপজেলা সেটাই প্রমাণ করেছে।”

dailyalochitosangbad