ঢাকাWednesday , 15 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রদর্শক বিতর্কিত আলেয়া খাতুন হীরার বরখাস্ত আদেশ পুনর্বহাল- অন্তহীন অভিযোগ 

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজের প্রদর্শক (সচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা) মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ পুনরায় বাতিল করে পূর্বের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ ও এলাকাজুড়ে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে।

গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক প্রফেসর মো. আছাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত মাউশি/রাজ/২০২৬/২৩৭(ক) নম্বর স্মারকে জানানো হয়, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় তদন্ত চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার বরখাস্তের আদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক ও আর্থিক সংশ্লিষ্ট সব কমিটি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, আলেয়া খাতুন হিরা তার ফেসবুক লাইভে এসে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) সংসদ সদস্য সহ এলাকার সুনাম ধন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপরে ব্যক্তিগত ক্ষোভে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অভিযোগ করে বলেন,”আলেয়া খাতুন হিরা মানসিক প্রতিবন্ধী। তার সুচিকিৎসার প্রয়োজন। তাকে বরখাস্তের জন্য এমপি সাহেব সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে দায়ী করেছেন। তিনি বিএনপির মত একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে জনগণের কাছে হাস্যকর করে তুলছেন।” তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দলের নীতিনির্ধারকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল কলেজে সংঘটিত একটি আলোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলেয়া খাতুন হীরাকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হলেও সর্বশেষ আদেশে তা বাতিল করে আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, “বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর কলেজে ফিরে তিনি আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়েছেন।” তাদের দাবি, এসব ঘটনার কারণে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই আলেয়া খাতুন হীরাকে ঘিরে এলাকায় নানা বিতর্ক রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি তার আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বরখাস্ত প্রত্যাহারের পর তিনি দাউকান্দি বাজারে এসে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এদিকে, গত ২৫ জুন তার বরখাস্ত প্রত্যাহারের আদেশ জারির পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সর্বশেষ আদেশে পূর্বের বরখাস্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অনেক সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, এ সিদ্ধান্তের পর এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

কলেজ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বরখাস্ত আদেশ পুনর্বহালের পর ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকের প্রত্যাশা, চলমান তদন্ত দ্রুত শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

dailyalochitosangbad