নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ৭ নং জয়নগর ইউনিয়নের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজে গত ২৩ এপ্রিল সংঘটিত আলোচিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ এবং কলেজের প্রদর্শক মোছাঃ আলিয়া খাতুন হীরা ও অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ) সকাল ১০টায় কলেজে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় রাজশাহী সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল ডক্টর মোঃ ইব্রাহিম আলীকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন রাজশাহী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ বারিক মৃধা ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ এহসান আলী। এছাড়াও তদন্তে সহায়তা করেন রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ হাবিবুর রহমান।
তদন্ত চলাকালে কমিটি দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে ২৩ এপ্রিলের ঘটনার বিষয়ে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের মৌখিক বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার দিন উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দী প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন ব্রহ্মপুর ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আফাজ উদ্দিন (৪৫), জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সেক্রেটারি মোঃ জয়নাল আবেদীন (৪৮), দাওকান্দি ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি মোঃ দুলাল মিয়া (৪৫), স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি মোঃ আব্দুস সামাদ (৭২), তাফসির মাহফিল কমিটির সভাপতিসহ কলেজের ৪ থেকে ৫ জন কর্মচারী।
তবে আলোচিত প্রদর্শক মোছাঃ আলিয়া খাতুন হীরা তদন্ত চলাকালে উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে কলেজজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়।
সকাল থেকে শুরু হওয়া তদন্ত কার্যক্রমে লিখিত অভিযোগ, মৌখিক বক্তব্য ও বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তদন্ত কমিটি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরে কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রাজ্জাকও দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে কলেজ ত্যাগ করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ তদন্তের মাধ্যমে ২৩ এপ্রিলের ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

