বিশেষ প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। চলছে ঘাত-প্রতিঘাত,সংঘাত।
উপজেলা বাসির অভিযোগ, দুর্গাপুর থানা পুলিশের নিরব দর্শকের ভূমিকার কারণে আইন শৃংখলার অবনতি। মাদক ব্যবসাসহ বেড়ে গেছে অন্যান্য অপরাধ। থানায় নেই অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চোখ কপালে উঠার মত নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। হাট কানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারি- ছুরিকাঘাতে আহত-১,থানায় লিখিত অভিযোগ। জয়নগর গ্রামে জোর পূর্বক খাস পুকুর দখল। কলোন্ঠিয়া গ্রামের বাবরের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট। হরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারি-ছুরিকাঘাতে আহত-১। সুখানদিঘী গ্রামে পরপর ২ টি মারামারি আহত-১,রক্তাক্ত জখম-১,থানায় মামলা-১। পুরান তাহেরপুর জমি-জমা বন্টন নিয়ে বিরোধে ২ পক্ষের আহত-১৫,থানায় মামলা-২। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, পুরান তাহেরপুরের জমি-জমা বন্টনকে কেন্দ্র করে ওয়ারিশ গণের মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত থেকে সংঘাত। দুর্গাপুর থানার মামলা নং ০৫ এর বাদী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, হায়দার পুরান তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সে এবং তার সহযোগী ফারুক,মোহন, মোস্তাক,মাসুরা,বুলুয়ারা,মেমজান,সুলেখাসহ কয়েক জন চাইনিজ কুড়াল,হাসুয়া,লোহার রড,হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে আমার ছোট ভাই মাবুদকে এলো পাথাড়ি কুপিয়ে বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ৪ জায়গায় কেটে দেয়, ২৬ টি সেলাই,ভাগিনা রউফের মাথার ২ পাশে ২০টি,লিটনের মাথায় ৬টি,ইরানের মাথায় ৫ সেলাই লেগেছে। এছাড়াও আহত হয়েছে বোন হালিমা,বোন জামাই বাবলু এবং ভাগিনা মিলন। সরেজমিনে বর্ণনার সত্যতা পাওয়া যায়। আসামিরা নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিচ্ছে এবং আবারও মারার উদ্দেশ্যে অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ঘুরা-ঘুরি করছে। তারা আ’লীগের নেতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। হায়দার ও ফারুকের নামে ২ টি নাশকতা মামলা রয়েছে। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
আহত মাবুদ বলেন,আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হায়দার,ফারুক ও মোহন হাসুয়া,চাইনিজ কুড়াল ও পাসলি (খেজুর গাছের ডাল কাটার হাতিয়ার) দিয়ে কুপিয়েছে। আমার অপরাধ পিতার সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার চেয়েছি। তার দাবি অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
আহত রউফ বলেন,আয়ান উদ্দিন আমার দাদির ভাই এবং আমার নানা ৩৭ বছর থেকে আমার দিদির সম্পত্তি জোরে করে ভোগ দখল করে খাচ্ছে। সম্পত্তির ভাগ দিবে বলে ডেকে নিয়ে আমাদের মেরেছে। আমার মাথার ২ পাশে ২০ টি সেলাই। তারা এখনো নানা ভাবে আমাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতার করেনি।
কালামের ছেলে হ্যাপি বলেন, পুলিশ আসামি গ্রেফতার করছে না। দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একই পুলিশ। আসামিরা আমাদের পান বরজের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার পান ঝুড়ে নিয়েছে। এই টাকায় তারা পুলিশ সহ বিভিন্ন স্থানে ঘুষ দিচ্ছে। পান বরজে কাজ করতে দিচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে ও নাশকতা মামলার বাদী ইউসুফ আলী (ইসব) জানান, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ২ টি নাশকতা মামলার আসামি হায়দার ও ফারুক। আমি ২০১৮ মামলার বাদী।
এই বিষয়ে কথা বলতে হায়দার ও ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন তুলেন নি।
মুঠোফোনে কথা হয় মোঃ রফিকুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত), দুর্গাপুর থানা। উপরিউক্ত বিষয় গুলো জানালে তিনি বলেন,আসামি গ্রেফতারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। সকল মামলার আসামি গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর। কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।

