ঢাকাFriday , 24 April 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভূয়া শিক্ষিকার হাতে বিএনপির একাধিক নেতা লাঞ্চিত 

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজশাহী দুর্গাপুর দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে রচিত হলো ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। ভূয়া শিক্ষিকার হাতে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৪ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) সকাল ১১.৩০ মিনিটে দাওকান্দি গ্রামে ইসলামী জালসার দাওয়াত পত্র দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা সামাদ সহ ৪-৫ জন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অধ্যক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে রুমে প্রবেশ করেন। এতেই বিপত্তির জন্ম। এই সময় একান্তে সময় কাটাচ্ছিলেন কথিত শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা ও অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক।

তারা রুমে প্রবেশ করতেই তাদের উপর চড়াও হয়ে মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে হীরা। পরিস্থিতি অত্যন্ত সুকৌশলে নিজ নৈপুণ্যে শীতল করেন সামাদ। এরপর,অধ্যক্ষ সবাইকে বসতে বলেন। এই সময় অফিস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক বুলবুল,মান্নান সহ কয়েকজন। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী সাহাদ। সামদ অধ্যক্ষের কাছে ইসলামী জালসা বিষয়ে কথা তুলতেই হীরা তাদের উদ্দেশ্যে উগ্র কন্ঠে বলে উঠেন,”এখানে চাঁদাবাজি করতে এসেছেন” এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মৎস্য ব্যবসায়ী সাহাদ প্রতিবাদ করলে সকল উপস্থিতর সামনে তাকে চড় মারেন সাহাদ তার অপমান সইতে না পেরে হীরাকে ছেন্ডেল দিয়ে ২ বাড়ি দেন।

ঘটনার সময় অধ্যক্ষ, অধ্যাপক বুলবুল, অধ্যাপক মান্নান হীরাকে উষ্কানি দিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের উষ্কানীতে হীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আফাজ উদ্দিনকে মেরে রক্তাক্ত যখম করেই ক্ষান্ত হয়নি। সকল ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন জয়নগর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন। এবার হায়েনার মত আক্রমণ করে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর আক্রমণ করে বসেন ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এসদার আলির উপর। সবাইকে হীরা একাই রক্তাক্ত জখম করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঘটনার দিন ছিল দাওকান্দি হাট। গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের গায়ে হাত তোলার খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দাওকান্দি কলেজ। গণ পিটুনিতে আহত হন হীরা ও অধ্যক্ষ রাজ্জাক।

কথা হয় সাহাদ আলীর সাথে তিনি বলেন, কলেজর ১৭ শতক জমি আমার লিজ নেওয়া এক পুকুরে আছে। অধ্যাপক বুলবুল ৫ বছরের টাকা এক সাথে নিবেন বলে আমাকে ডেকেছিলেন। আমি টাকা দিতে এসেছিলাম। হীরার ব্যবহারে আমি হতভম্ব। আমি অসুস্থ মানুষ মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফিরে এসেছি। ঐ মহিলা আমার গায়ে হাত তুলেছে এবং আমার শার্ট এর পকেট থাকা পুকুরের টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, আলেয়া খাতুন হীরার ৮ স্বামী বর্তমানে সে একা। তার চরিত্র ভাল না। বড় বড় সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এই মহিলা এলাকার কাউকে তোয়াক্কা করে না। সে এতটাই জঘন্য যে নিজের বড় ভাইয়ের নামে রেপ মামলা করেছিল।

কলেজের একাধিক সূত্রে জানা যায়,হীরা কোন শিক্ষিকা নয়, তিনি ষাট লিপি মুদ্রাক্ষরি ডেমু। হীরা কলেজের স্টাফ থেকে শুরু করে অধ্যক্ষকে নিজের আয়ত্তে রাখতো। সে ছিল কলেজের অলিখিত অধ্যক্ষ। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হতে হয় লাঞ্ছিতের স্বীকার।

এই বিষয়ে কথা বলার জন্য হীরা ও অধ্যক্ষ রাজ্জাকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে উভয়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কথা হয় দুর্গাপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ পঞ্চনন্দন সরকারের সাথে তিনি বলেন, সার্কেল এএসপি স্যার সহ আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

dailyalochitosangbad