নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর নওপাড়া ইউনিয়ন পালশা নতুন হাটের মাদ্রাসা-ই মদিনাতুল উলূম কাওমী হাফিজিয়া এন্ড কিন্ডারগার্টেন নামের মাদ্রাসা সুপার জাহিদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে করেছেন আলিশান বাড়ি। করেন রাজকীয় চলাফেরা দাবি স্থানীয়দের।
সর্বশেষ, ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সরকারি অনুদানের চাল ও ৩৭ বস্তা লবন বিক্রির চেষ্টাকালে জাহিদ হাসান (৩৫) মাদ্রাসা সুপারকে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা। ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে ৭৪ বস্তা সরকারি অনুদানের চাল বিক্রি করেছেন তিনি।
সরেজমিনে উঠে আসে চোখ কপালে উঠার মত নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় সচেতন মহলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠে এই প্রতিষ্ঠান। ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় পাঠদান কার্যক্রম। সুপারের খামখেয়ালি চলাফেরার কারণে বর্তমান আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থী ১০৫ জন। কোন শিক্ষক ৩ মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।
সাবেক শিক্ষক হাবিব (নওগাঁ) অভিযোগ করে বলেন, “আমি এক বছর চাকুরি করেছি। সুপারের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২ মাসের বেতন না দিয়ে আমাকে বাদ দিয়েছিলেন। এখন আমি বকেয়া বেতন পাই।”
স্থানীয় আমজাদ, হিটলার, দেলোয়ার, নাইমুলসহ অনেকেই বলেন, “প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পরিচালনা কমিটি নাই। প্রতিষ্ঠান চলে স্থানীয় দাতাদের অর্থায়নে, সরকারি অনুদান, বাৎসরিক ২ জালসার আদায়, ছাত্রদের মাসিক বেতন ও রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের মাধ্যমে। স্থানীয় দাতাদের মধ্যে বড় একটা অংশ আসে উত্তর বঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম সাকলায়েনের কাছ থেকে। অথচ আয়-ব্যয়ের নেই কোন রেজুলেশন। সব কিছুতে একক কর্তৃত্ব সুপার জাহিদের।”
মাদ্রাসা গেটে দোকান অভিভাবক ইন্তাজ আলী বলেন, “আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হয়না নিয়মিত রান্না। ফলে বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা খাবার দিয়ে যান সন্তানদের। পূর্বে পরিচালনা কমিটি থাকতে সুপার কমিটিকে হিসাব না দিয়ে আ’লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের নানা ভয়ভীতি দেখাতেন।”
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, ২৭ আগস্ট দুপুর ২.৩০ মিনিটে সুপার জাহিদের ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে সরকারি অনুদানের চাল ও লবণ বিক্রির চেষ্টার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। পালশা নতুন হাট সংলগ্ন মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক জাহিদ হাসান খাঁ উপজেলার পালশা গ্রামের টোটারপাড়া এলাকার কামরুল খাঁর ছেলে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক স্বাভাবিক হয়। জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুর্গাপুর, রাজশাহী।
লায়লা নূর তানজু বলেন, “সরকারি অনুদানের চাল বিক্রির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তার বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, ১ মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ৫০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
স্থানীয়রা বলেন, একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে সরকারি অনুদানের চাল বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

