বিশেষ প্রতিবেদনঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-২৬ ব্যাচেলর ৫০ জন পরিক্ষার্থী। তাদের সকলের পরিক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা যায়,নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অতুরঘর এই প্রতিষ্ঠান অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের। তাদের দাবি,অতিতে এই প্রতিষ্ঠানে হাজার-হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪৫০ জন। তাদের মধ্যে এসএসসি-২০২৬ ব্যাচে পরিক্ষার্থী ৫০ জন। সকলের পরিক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের নানা ভুল ৪৬ ও ৪ জনের প্রবেশ পত্র আসেনি।
একাধিক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, তাদের নাম, পিতা-মাতার নাম,বয়স, ছাত্রের ছবিতে ছাত্রীর ছবি আবার ছাত্রীর ছবির স্থানে ছাত্রের ছবি এমন নানা গুরুতর ভুল। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ তাদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের পরিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে বখতিয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষা কেন্দ্রে তালা লাগিয়ে দিয়ে আন্দোলনে যাবে।
একাধিক অভিভাবকের অভিযোগ সম্পূর্ণ গাফিলতি অযোগ্য প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও হিসাব রক্ষক রহিদুলের। দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বপ্ন নিজেদের চোখের সামনে শেষ হয়ে যাবে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিভাবক পরিক্ষার্থী আরিফের মা ও আরেক অভিভাবক মুরাদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মহিদুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও হিসাব রক্ষক রহিদুল প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। যা পরবর্তীতে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবো আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা। স্থানীয়দের সাথে কথা বলার সময় একাডেমিক সুপারভাইজার মহিদুল বিদ্যালয়ের অফিস রুমে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনায় ছিলেন। এই সময় প্রধান শিক্ষক ও হিসাব রক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে তাদের উপরে চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অফিস রুম থেকে বের করে দেন মহিদুল।
অথচো সাংবাদিকতার অধিকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ,২০২৫’ আইনানুযায়ী,কোনো গণমাধ্যমকর্মী বা সাংবাদিকের কাজে বাধা দিলে বা তাদের ওপর চড়াও হলে ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গণমাধ্যম কর্মীরা প্রচলিত আইনে মহিদুলের শাস্তি দাবি করেন।
কথা হয় মাশতুরা আমিনা, দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন, খবর শুনা মাত্রই আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিক্ষার্থীরা যেনো পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছি। পরিক্ষার্থীরা যেনো সুষ্ঠু ভাবে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এটাই আমাদের কাম্য। একাডেমিক সুপারভাইজারের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন।

