নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
‘এক সন্তান, এক বৃক্ষরোপণ’—এই অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন উম্মে হাবিবা ফারজানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দুর্গাপুর, রাজশাহী। একই সঙ্গে নবজাতকের তাৎক্ষণিক জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় হাসপাতালেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল—নতুন জন্ম নেওয়া একটি শিশুর বাড়িতে গিয়ে শিশুটির নামে একটি বৃক্ষরোপণ করা এবং পরিবারের হাতে জন্ম নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া।
এ সময় নবজাতকের পরিবারকে শুভেচ্ছা জানাতে সঙ্গে করে মিষ্টি নিয়ে আকস্মিক উপস্থিত হন ইউএনও এবং পরিবারের সদস্যদের মিষ্টিমুখ করান তিনি। জন্মের আনন্দকে বৃক্ষরোপণ ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই সময় নবজাতকের পরিবারকে শুভেচ্ছা জানান এবং শিশুটির সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন উম্মে হাবিবা। একই সঙ্গে শিশুর জন্মের পর দ্রুত জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
অন্যদিকে, নবজাতকের নামে একটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে শিশুর সঙ্গে একটি বৃক্ষের প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি করা হয়েছে। শিশুটি যেমন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে, তেমনি তার নামে লাগানো গাছটিও বেড়ে উঠে পরিবেশের জন্য উপকার বয়ে আনবে—এমন ভাবনা থেকেই ‘এক সন্তান, এক বৃক্ষরোপণ’ ধারণাটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান উম্মে হাবিবা ফারজানা।
তিনি আরও বলেন, “একটি শিশুর জন্ম শুধু একটি পরিবারের আনন্দের বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে শিশুটির পরিচয় ও অধিকারও জড়িত। জন্ম নিবন্ধন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় পরিচয় ও বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জন্মের পরপরই নিবন্ধন সম্পন্ন করার বিষয়ে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”
নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্টদের এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একটি শিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে একই সঙ্গে আনন্দ, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার এ উদ্যোগকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

