ঢাকাSaturday , 29 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্পার আড়ালে মাদক ও অনৈতিকতা: গুলশান-বনানীতে অভিযোগের পাহাড়, অভিযানে শতাধিক গ্রেফতার

Link Copied!

বিশেষ প্রতিবেদক:

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও গোয়েন্দা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে শতাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর বিষয়টি আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সম্প্রতি পরিচালিত একাধিক অভিযানে কয়েকটি স্পা সেন্টার থেকে নারী-পুরুষসহ বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, গুলশান-১, গুলশান-২ এবং বনানীর বিভিন্ন সড়ক, শপিং কমপ্লেক্স ও বাণিজ্যিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য স্পা সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড নেই। বাইরে থেকে সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মনে হলেও ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর এসব প্রতিষ্ঠানে অস্বাভাবিক যাতায়াত বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু স্পা সেন্টারে নিয়মিত অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা দেখা যায়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কয়েকটি স্পাঃ অনুসন্ধানে জানা গেছে, বনানীর একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায় পরিচালিত একটি স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শাওন নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

এ ছাড়া গুলশান-২ গোলচত্বর সংলগ্ন একটি স্পা সেন্টারের সঙ্গে রত্না নামের এক নারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে বনানী কবরস্থান সংলগ্ন একটি স্পা সেন্টারের সঙ্গে শহীদ নামের এক ব্যক্তির নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কীভাবে চলে ব্যবসাঃ স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু স্পা সেন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ ও ফোনকলের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করে। এ কাজে মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্ট নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের ‘প্যাকেজ’ অফার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ঘণ্টাভিত্তিক তথাকথিত বিশেষ সেবার জন্য দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর টিকে আছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

অভিযানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্যঃ ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি গুলশান ও বনানীর বিভিন্ন স্পা সেন্টারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গুলশান-২ এলাকার একটি স্পা থেকে ১৯ নারী ও ৩ পুরুষসহ ২২ জনকে আটক করা হয়। অন্যদিকে গুলশানের আরও দুটি স্পা সেন্টার থেকে ২৯ নারী ও ২৪ পুরুষসহ ৫৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল বলে তাদের কাছে তথ্য ছিল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র স্পা ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন, মালিকানা ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও তদন্ত চলছে।

মামলা ও আইনি প্রক্রিয়াঃ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু কর্মচারী বা গ্রাহক নয়, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক, অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তাঃ ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেছেন, “অভিজাত আবাসিক এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি আরও জোরদার করা হবে।”

তিনি বলেন, রাজধানীতে কোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বা অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন: অভিযান কি স্থায়ী সমাধান দেবে?

এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই একই প্রতিষ্ঠান নতুন নামে বা নতুন ব্যবস্থাপনায় আবার কার্যক্রম শুরু করে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি, লাইসেন্স যাচাই, আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।

গুলশান ও বনানীর বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং স্পা ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত যেকোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

dailyalochitosangbad