ঢাকাThursday , 1 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থনীতি
  4. আইন বিচার
  5. আন্তর্জাতিক
  6. ইসলাম
  7. ক্যাম্পাস
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গণমাধ্যম
  11. চট্রগ্রাম
  12. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  13. জনপ্রিয় সংবাদ
  14. জাতীয়
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিয়ম নয়, ভাড়া ঘরই যোগ্যতা! রাজশাহীর দুর্গাপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সার ডিলার নিয়োগে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রায় ৩০ বছরের পুরনো পাবলিক গ্রন্থাগার সারের গুদাম দেখিয়ে ডিলারশিপের আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই আবেদন উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ হয়ে জেলায় গেছে বলেও অভিযোগ।

ঘটনাটি দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের যে ঘরটিতে দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক গ্রন্থাগার ছিল, যেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বই পড়তেন, সেই ঘরটি এখন বন্ধ। দরজার সামনে ঝুলছে ‘মেসার্স তারেক ট্রেডার্স, সার বিক্রয় কেন্দ্র’ নামের সাইনবোর্ড।

স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, তারা স্কুলে পড়ার সময় এই লাইব্রেরিতে নিয়মিত আসতেন। হঠাৎ কয়েক বছর ধরে এটি বন্ধ। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাও বন্ধের কারণ জানেন না।

এই সাইনবোর্ডের মালিক মো. সাইদুর রহমান। তিনি স্বীকার করেছেন, জায়গাটি আগে পাবলিক গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে তার দাবি, জায়গাটি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং তিনি ভাড়া নিয়েছেন। তিনি নিজে কোনো ব্যবসা করেন না, মাঝে মাঝে আলুর ব্যবসা করেন বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইদুর রহমান দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মোঃ জোবায়েদ হোসেনের ভাই। তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে আইনকে তোয়াক্কা না করে তার ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে সারের ডিলার পাইয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে জয়নগর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটি যাচাই-বাছাই করছে। সাইদুর রহমান ভাড়ার এগ্রিমেন্ট দিয়েছেন এবং ঘরটির মালিকানা আছে বলেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি নিয়মে সার সংরক্ষণের জন্য উপযোগী, পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন গুদাম থাকা বাধ্যতামূলক হলেও একটি বন্ধ গ্রন্থাগার কীভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলো?

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “আমি নিজে প্রতিটি আবেদন তদন্ত করিনি। কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। জেলা থেকেও যাচাই হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সব করা হয়েছে। ওই ঘরকে পাবলিক গ্রন্থাগার বলা ঠিক নয়। মালিকানা ও এগ্রিমেন্টের ভিত্তিতেই তালিকা করা হয়েছে। তবে তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়।”

কৃষক ও সচেতন মহলের দাবি, সার ডিলার নিয়োগ শুধু ব্যবসা নয়, কৃষকের সেবার সঙ্গে জড়িত। তাই বিতর্কিত আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে গুদামের প্রকৃত অস্তিত্ব ও আবেদনকারীর যোগ্যতা নিরপেক্ষভাবে সরেজমিনে যাচাই করা জরুরি।

dailyalochitosangbad