নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার সেকশন-১১, ব্লক-সি, এভিনিউ নিউ-৫, ১৭/২৯, প্লট-৪, ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত ‘তালুকদার ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ নামের একটি বেকারি কারখানার বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বৈধতা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং গ্যাস সংযোগ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটিতে খাদ্য উৎপাদনের পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। যথাযথ পরীক্ষার ব্যবস্থা ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা ও হুমকির অভিযোগ;
কারখানাটিতে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দেওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মালিকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। এ সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় উল্লেখ করে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
কারখানার মালিক হিসেবে মো. গোলাম ফারুক তালুকদারের নাম জানা গেছে। ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ‘রানা’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মালিককে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।
গ্যাস সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন, পরিবেশ দূষণের অভিযোগ;
কারখানাটিতে ব্যবহৃত গ্যাস সংযোগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত নিয়মের বাইরে গ্যাস ব্যবহার করছে। তবে গ্যাস সংযোগের বৈধতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন ও সরকারি যাচাই প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কারখানার বর্জ্য ও উৎপাদন কার্যক্রমের কারণে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ;
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গোলাম ফারুক তালুকদার অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জরুরি তদন্তের দাবি;
স্থানীয় জনগণের দাবি, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কারখানাটি পরিদর্শন করে ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্য উৎপাদনের অনুমোদন, বিএসটিআই-সংক্রান্ত অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, গ্যাস সংযোগ এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করুক।
অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে কারখানাটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. গোলাম ফারুক তালুকদার ও ব্যবস্থাপক রানার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

