নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী জেলা জুড়ে চলতি মৌসুমে ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন কার্য শুরু করে মাটি খেকো চক্র। কৃষি জমি ও কৃষক বাঁচাতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে অবৈধ পুকুর খননে “জিরো টলারেন্স” নীতি ঘোষণা করে। উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন কোন ক্রমেই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে দেওয়া যাবেনা।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে নিয়মিত ভাবে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে কৃষি ও কৃষক বাঁচাতে অপরিসীম ভূমিকা রাখছে। যা উপজেলাবাসীর কাছে প্রশংসিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন মালিপাড়া গ্রামে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯.৩০ মিনিট হইতে রাত ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন, শিবু দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুঠিয়া, রাজশাহী।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে ফসলি জমির টপসয়েল কাটা প্রতিরোধে, ধানী জমির শ্রেণী পরিবর্তনের অপরাধে একজনকে ০২ মাস ও অপরজনকে ০১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড সহ অর্থ দন্ড করা হয়েছে। পরিবহনের সুযোগ না থাকায় এসময় ফসলি জমির টপসয়েল কাটার কাজে ব্যবহৃত ৩ টি এস্কেভেটর পুরোপুরি অকেজো করা হয়। ঘটনাস্থল হতে ৬ টি ব্যাটারি জব্দ করা হয় ও অবৈধ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুতকৃত ২৫০ লিটারের অধিক ডিজেল ধ্বংস করা হয়। সাজা প্রাপ্ত আসামী ১. আব্দুর রহিম (২৮), পিতা- আজাহার আলী,টাংগাইল। ০১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০০ টাকা জরিমানা। ২. শাহাবুদ্দীন আহম্মেদ, পিতা- শাহজাহান আলী, রাতোয়াল, পুঠিয়া, রাজশাহী। ০২ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০০ টাকা জরিমানা। আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার মোবাইল কোর্টে সম্ভব হয়নি বিধায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে শিবু দাস বলেন, “জেলা প্রশাসক স্যারের কঠোর নির্দেশ অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে দেশের কৃষক ও কৃষি ভূমি রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে ২০১০ সালের প্রধান ভূমি ও পরিবেশগত আইন “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুযায়ী অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”

