বিশেষ প্রতিবেদনঃ
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শক্ত পরিচালিত হলেও, আইনের যথাযথ প্রয়োগে ব্যর্থ দুর্গাপুর থানা পুলিশ। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলে থানা পুলিশের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
স্থানীয়দের দাবি, “দুর্গাপুর থানা পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীর, মাদক বিক্রির ভিডিও, মাদক ক্রেতার ভিডিও বক্তব্য, মাদক সেবনের ভিডিও, মাদক কোথায় বিক্রি হয় সেই তথ্য প্রমাণ দিয়েও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।”
এ উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৭২ টি ওয়ার্ড এবং ১২৩ টি গ্রাম। প্রায় প্রতিটি গ্রামেই চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। এ যেন মাদকের জন্য অভয় রাজ্য।
বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, “জেলার অন্যান্য থানা পুলিশ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নিরলস কাজ করে গেলেও কাজ করছে না দুর্গাপুর থানা পুলিশ।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন প্রয়োগকারী বাহিনী হলো ‘বাংলাদেশ পুলিশ’। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে এই বাহিনী মূল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় দুর্গাপুর থানা পুলিশ নিষ্ক্রিয়।”
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, “দেশে এখন পর্যন্ত ২৪ ধরনের মাদক উদ্ধার হয়েছে ৷ আর এসব মাদকের মধ্যে সর্বত্র পাওয়া যায়ঃ ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ। এছাড়াও রয়েছে, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ডিনেচার্ড স্পিরিট, তাড়ি, প্যাথেডিন, বুপ্রেনরফিন (টি.ডি. জেসিক ইঞ্জেকশন), ভাং, কোডিন ট্যাবলেট, ফার্মেন্টেড ওয়াশ (জাওয়া), বুপ্রেনরফিন (বনোজেসিক ইঞ্জেকশন), মরফিন, আইচ পিল, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট ও মিথাইল-ইথাইল কিটোন যা সব জায়গায় পাওয়া যায় না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, “মাদকের ভয়াল থাবা বর্তমান যুব সমাজের জন্য একটি মারাত্মক ব্যাধি, যা তরুণ প্রজন্মকে শারীরিক, মানসিক ও নৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই নষ্ট করে না, বরং পরিবার ও সমাজকে মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দেয়।”
সরকারের পদক্ষেপ, “মাদক পাচার, চোরাকারবারি এবং এর পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোরভাবে ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা) নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক নির্মূলের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা এবং দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।”
মাদক সম্পর্কে লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন,”মাদকাসক্তি এক ভয়াবহ মরণব্যাধি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যে সকল সমস্যা বিদ্যমান তার একটি অন্যতম সমস্যা হচ্ছে মাদকের ভয়াল থাবা। দিন দিন মাদকের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। শহর থেকে শুরু করে গ্রামেও এটি সহজলভ্য। এসব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে সামাজিক প্রতিরোধ।”
মুঠোফোনে কথা হয় পঞ্চনন্দ সরকার, অফিসার ইনচার্জ, দুর্গাপুর থানা। তিনি বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক ব্যবসায়ীকে হাতে নাতে ধরতে আমাদের সোর্স কাজ করছে।”
মাদকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ আইন হলো “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬”, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে। ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে এই বিল পাস হয়েছে। উপজেলা বাসি এই আইনের প্রয়োগ দেখতে চাই।

