স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে সততা, নিষ্ঠা ও সাহসীকতার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এখন পর্যন্ত। বর্তমান তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তদবির, চাপ উপেক্ষা করে সততা নিষ্ঠার মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সকল স্তরে জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ১লা জুলাই (বুধবার) কৃষি জমি রক্ষার্থে উপজেলার আলিপুরে অভিযান চালিয়ে ৩টি ভেকু এবং ৬টি ব্যাটারি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে সেই সাথে ১৫(১) বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী মামলা হয়েছে। নিয়মিত মামলার নম্বরঃ ২৩। অভিযান পরিচালনা করেছেন,লায়লা নূর তানজু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার প্রবণতা ভয়ংকর। তা হতে পারে কৃষির জন্য বড় ধরনের হুমকির কারণ। ফসলের উৎপাদনে আসতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। ক্রমাগত কমতে থাকবে ফসল উৎপাদন। যার ফলে অধিক চাষাবাদেও ফলন হবে কম। দেখা দেবে খাদ্য ঘাটতি। শীত মৌসুমে মাঠ থেকে ফসল উঠে যাওয়ার পরপরই এ সময়ে মাটি কাটার জন্য অ্যাস্কেভেটর, ট্রাক ও শ্রমিক সরবরাহ করতে থাকে একশ্রেণির সিন্ডিকেট।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, ফসলি জমির উপরিভাগ কাটা আমাদের পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এটি দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কে শোনে কার কথা এ কাজে জড়িত সবাই প্রভাবশালী।অনেক সময় জমির মালিককে না জানিয়ে রাতের আঁধারেই কেটে নেওয়া হয় ফসলি জমির (টপ সয়েল) উপরিভাগের মাটি। এই চক্রের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করার সাহসও পান না জমির মালিকরা। দফায় দফায় প্রতি বছর প্রশাসন কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করলেও শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পরপরই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে চক্রটি।
বিজ্ঞানের ভাষায়, জমির টপ সয়েলে সবচেয়ে ঘনত্বের জৈবিক বস্তু থাকে বলে উদ্ভিদ পৃথিবীর প্রায় ৯৫ শতাংশ খাদ্য উৎপাদনে একে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করে। সুতরং প্রশাসনসহ সবারই দায়িত্ব টপ সয়েলকে রক্ষা করা। তা না হলে একসময় মাটি তার উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। আর এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ফসল উৎপাদনে অনীহা প্রকাশ করবেন এবং এতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে; যা কখনোই আমাদের কাম্য হতে পারে না। তাই প্রতিরোধ জরুরি এবং তা এখনই।
অভিযান প্রসঙ্গে লায়লা নূর তানজু বলেন, কোনো ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার অনুমতি কারোর নেই। এরই মধ্যে এ কাজ করার দায়ে অনেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এবং নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। কোনো স্থানে যদি এভাবে অবৈধভাবে মাটি কাটা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), সহকারী কমিশনার-ভূমি (AC Land) বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে অবহিত করতে পারেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশ রয়েছে। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

