রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান (হাফিজ) বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বানিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পদ দখল এবং দোকানঘর কেলেঙ্কারি করে হয়েছেন কোটিপতি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ২০০৮-২০০৯ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতনের পর আওয়ামী সরকারের নৌকার বৈঠা ধরে ২০১০ সালে প্রধান শিক্ষক পদটি বাগিয়ে নেন হাফিজ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি তার কর্মকাণ্ড মাফিয়া ও সন্ত্রাসমূলক ভঙ্গি ধারণ করেছিল, যা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
সূত্র বলছে, তিনি নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এবং এখন পর্যন্ত আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় দাপুটে অবস্থান বজায় রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তেমন গুরুতর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হাফিজকে নাম মাত্র শোকজ করা হলেও, প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২ একর জমি, রয়েছে পুকুর, আমবাগান,লিচুগাছ, একাধিক দোকানঘর, নিজস্ব জমিতে হাট। ১৫ বছরের আয়‑ব্যয় ও সম্পদের সঠিক হিসাব নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আছেন যারা জাল সনদে শিক্ষকতা করছেন। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা এনটিআরসিএ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দাওকান্দি গ্রামের আলতাফের মেয়ে জামাই বাগলপাড়া গ্রামের হাসান বলেন, সভা কার্য বিবরণ বহির মাধ্যমে ৩ শত টাকার স্ট্যাম্প করে মোট ২,৬৭,১৮৬/= টাকার বিনিময়ে ১৬.১১.২০১২ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানের একটি দোকান ঘর ভাড়া দেন হাফিজ । পরবর্তীতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাকে দোকান না দিয়ে তার ভাতিজা শাহানুরকে দোকান দেন। এতে আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আজ পর্যন্ত হাফিজ আমার টাকা ফেরত দেয়নি । বর্তমানে আমি আর্থিক অনটনের পড়েছি। তাকে বারবার বলেলেও সে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য, হাফিজুর রহমান হাফিজের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট কান্ডের বিষয় নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার পরেও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতায় নিজ প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে থেকে জন্ম দিচ্ছেন নানা অপকর্মের। তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অনুসন্ধানে সোমবার (২২ জুন) দেশের একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল প্রতিনিধি গিয়েছিলেন বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত হাফিজকে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন না তুলাতে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক হাফিজকে শোকজ করা হয়েছিল ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
এই বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিনের সাথে তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষক হাফিজকে শোকজ করা হয়েছিল। আমি যোগাযোগ দানের পর ৫ মাসের আয়ের অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দেননি প্রধান শিক্ষক হাফিজ। পরবর্তীতে এক সাথে সমস্ত অর্থ জমা দিলে শোকজ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরের আয়‑ব্যয় সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।”
স্থানীয়রা বলছেন, তার বিরুদ্ধে শোকজ বা সাময়িক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তারা চাইছেন, প্রতিষ্ঠানের ১৭ বছরের আয়‑ব্যয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছ ও স্বতন্ত্র ভাবে তদন্ত করা হোক। আওয়ামী লীগের দোসর প্রধান শিক্ষক এই হাফিজুর রহমান হাফিজকে অতি শীঘ্রই চাকুরি চ্যুত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

