ঢাকাThursday , 25 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. বন ও পরিবেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে শুরু হলো “ফল ও আম মেলা-২০২৬” উদ্বোধনে- জেলা প্রশাসক

Link Copied!

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’-এর অর্থায়নে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত “ফল ও আম মেলা-২০২৬”। এবারের ফল মেলার মূল প্রতিপাদ্যঃ “করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করবো বারো মাস”।

২৫জুন (বৃহস্পতিবার) নগরীর রেলগেট খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, পুলিশ সুপার, রাজশাহীসহ সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।

আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষকদের উৎসাহিত করতেই এই আয়োজন। ৩ দিনব্যাপী ফল ও আম মেলা আয়োজনের মাধ্যমে সুস্বাদু দেশীয় আম ও অন্যান্য ফলের প্রসার ও পুষ্টিগুণ তুলে ধরা হয়। মেলায় বিভিন্ন জাতের আম, মৌসুমি ফল, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি তথ্যসেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

মেলার উদ্দেশ্য,দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি। আধুনিক উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির প্রদর্শন। ফলভিত্তিক অর্থনীতির প্রসার ও বিদেশে ফল রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশে প্রায় ১৩০টি ফলের প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭০টি ফলের বাণিজ্যিক ও বসতবাড়ি পর্যায়ে চাষাবাদ হচ্ছে। আম, কাঁঠাল, লিচু, কলার মতো ঐতিহ্যবাহী ফলের পাশাপাশি বর্তমানে ড্রাগন, স্ট্রবেরি ও বিদেশি কুলের মতো ফল চাষ করে নতুন উদ্যোক্তারা দারুণ লাভবান হচ্ছেন।

আরও জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে বিশ্বে ২৮তম, আম উৎপাদনে ৭ম এবং পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম অবস্থানে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক এই অর্জনের বিপরীতে আমাদের অভ্যন্তরীণ পুষ্টির চিত্র কিছুটা চিন্তার।

পুষ্টিবিদদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক মাথাপিছু ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত, অথচ আমাদের দেশে ফলের প্রাপ্যতা মাত্র ৯৫ গ্রাম। এর একটি বড় কারণ ফলের ঋতুভিত্তিক অসমতা। বছরের মে থেকে আগস্ট (মধু মাস) এই চার মাসেই দেশের মোট ফলের প্রায় ৬০ ভাগ উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফলের প্রাপ্যতা যথাক্রমে মাত্র ২১% ও ১৯%। শীত ও বসন্তকালে ফল প্রাপ্তির এই ঘাটতির কারণে গ্রামীণ মা ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। পুষ্টি নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফল।

মেলা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, “খাদ্য ও পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস হলো ফল। বাংলাদেশের ফল স্বাদে, গন্ধে, বর্ণে ও পুষ্টিমানে আকর্ষণীয় এবং বৈচিত্র্যময়। ফলদ বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি-২)-তে ক্ষুধা মুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা বিধান, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং টেকসই কৃষির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তথা দেশের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বছরব্যাপী ফল চাষ এবং তার সঠিক সংরক্ষণ এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।” তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন “আসুন, দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির এই উদ্যোগকে সফল করি।”

dailyalochitosangbad