বিশেষ প্রতিবেদনঃ
রাজশাহী জেলা জুড়ে চলছে পুকুর খননের হিড়িক। এ যেন এক অদৃশ্য ধুম্রজাল। নেই প্রশাসনিক কঠোর কোন পদক্ষেপ। সূত্র বলছে, জেলা জুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ পুকুর খনন চলছে। যার কিছু ইতি মধ্যে শেষ হয়েও গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আবাদি জমিতে চলছে এই অবৈধ পুকুর খনন। পুকুর খননের নেই প্রশাসনিক অনুমতি । তাহলে প্রশ্ন আসে কি ভাবে দিন রাত এক করে চলছে এই খনন কার্য?? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একদল সংবাদ কর্মী ছুটে যায় মাঠে পর্যায়ে । উঠে আসে চোখ কপালে উঠার মত নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জেলার সব থেকে বেশি পুকুর খনন চলছে মোহনপুর উপজেলায় । উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের ধুরশা বিলে দেখা যায় প্রায় ১ শত বিঘা ৩ ফসলি জমিতে এই মৌসুমে পুকুর খনন শেষ হয়েছে, খনন চলছে প্রায় ৫০ বিঘা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় কৃষক গণমাধ্যমকে বলেন, এই বিল ছিল সবুজ ফসলে ভরা, বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতেন তারা, এখন শুধু পুকুর আর পুকুর। যেই পুকুর খনন চলছে তা শেষ হলে আরো ১৫০ বিঘা জমিতে পুকুর হবে বলে জানান কৃষক। কারা খনন করছে এই অবৈধ পুকুর ? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন,দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে চলছে এই খনন কার্য । তবে তার উপরে কেউ আছে এমনটাই দাবি করেছেন কৃষকরা।
বিএনপি নামধারী কতিপয় সুবিধা ভোগী মৌসুমী নেতা-কর্মীদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পুকুর খনন কার্য চালু হয় বলে জানা যায়। সেই সকল মুখোশ ধারি কথিত বিএনপি নেতাদের পরিচয় দেশবাসির সামনে তুলে ধরা হব পরবর্তী সংবাদে।
কৃষকের অভিযোগের তীর উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপির কতিপয় মৌসুমী নেতার দিকে। তাঁরা অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন এমনটাই দাবি কৃষকদের । মাঠে ঘাটে চলছে এমন নানা জল্পনা-কল্পনা। সূত্র বলছে, মোহনপুর উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপি নেতারা নিয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। প্রান্তিক কৃষকরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন পুকুর বন্ধে।
তবে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন। তথ্য পাওয়া মাত্রই নিয়মিত অভিযান দিয়ে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন-২০২৩ অনুযায়ী নিচ্ছেন আইনি পদক্ষেপ।
এই বিষয়ে জানতে মুঠো ফোনে কথা হয় অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ এর সাথে তিনি বলেন, একটি পুকুর খনন সম্পন্ন হয়েছে। এখন যে কাজ চলছে তা রাস্তায় মাটি দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন ভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করেন। প্রশ্ন থেকে যায় যে নতুন রাস্তা হচ্ছে সেখানে তাহলে কি ভরাট বালুর পরিবর্তে মাটি দেওয়া হচ্ছে??
কথা হয় মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দিকার সাথে তিনি বলেন, অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আক্তারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোহনপুর উপজেলা নয় জেলার কোন উপজেলাতেই পুকুর খনন অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তিনি আরোও বলেন, যেখানেই অবৈধ পুকুর খনন হবে সেখানেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া আছে।

