ঢাকাFriday , 4 April 2025
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইসলাম
  6. ক্যাম্পাস
  7. খুলনা
  8. খেলাধুলা
  9. গণমাধ্যম
  10. চট্রগ্রাম
  11. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  12. জনপ্রিয় সংবাদ
  13. জাতীয়
  14. ঢাকা
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজশাহীতে এমপি-মন্ত্রীর পুকুরের দায়িত্বে এখন বিএনপি নেতা

Link Copied!

অনলাইন ডেস্কঃ

রাজশাহীর বাগমারার সংসদ আবুল কালাম আজাদ, পুঠিয়া-দুর্গাপুর (৫) আসনের সংসদ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারা ও তাদের আস্থাভাজন তাহেরপুরের আওয়ামী লীগের কষ্টিপাথর নামে পরিচিত কার্তিক সাহা, যুবলীগের পদধারী নেতা পুকুর সোহেল এরা সিন্ডিকেট করে দুর্গাপুর উপজেলার উজালখলসি আড়োইল বিলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ৩শ বিঘা জমিতে প্রান্তিক কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন ফসলী আবাদি জমিতে পুকুর খননের কাজ শুরু করেন।

সুত্র বলছে, সেই সময় তাদের দলীয় দাপটের কারণে প্রশাসন নিশ্চুপ হয়ে যান। তাদের দুর্ভাগ্য অবৈধ পন্থায় পুকুর খনন শুরুতেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৮ মাস দেখা মিলেনি দখলদার ও এমপি-মন্ত্রীর বাহিনীদের। হঠাৎ ঈদের আমেজকে কাজে লাগিয়ে আবারো তিন ফসলি জমিগুলোতে ভেকু মেশিনের হাট বসিয়েছেন।

প্রকাশ্যে দিনের কিছু সময় ও রাতের বেলায় নাক চুবিয়ে চলছে পুকুর খননের কার্যক্রম। এমন পুকুর খননের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমিকে মুঠো ফোনে ফোন করলে তিনি জানান, অবৈধ পন্থায় খনন করা সেই বিতর্কিত পুকুরে ৫ বার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানায় খননের সাথে যুক্ত থাকা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা ও করা হয়েছে। একাধিক সুত্র বলছে, এখন আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের পুকুর সুষ্ঠুভাবে খননের দায়িত্ব নিয়েছেন তাহেরপুর অঞ্চলের বিএনপির নেতা শামসুর রহমান মিন্টু। এমপি মন্ত্রীর পার্টনার কার্তিক সাহার অর্থে হাবু ডুবু খেয়ে কয়েকটি দপ্তরকে কবজা করতে তিনি মরিয়া।

দুর্গাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সাবরিনা শারমিন অবৈধ পুকুর খননের বিপক্ষে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সব সময়। কোথাও অবৈধ পুকুর খননের সংবাদ পেলে ছুটে গেছেন ছুটির দিনেও। নিয়েছেন নানা আইনি পদক্ষেপ, করেছেন অর্থ দন্ড, দিয়েছেন মামলা। তাঁর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন ব্যক্তি একাই সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি জানানি কত দিন টিকতে পারবো তবে যত দিন দায়িত্বে আছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবো। পুকুর খননের অনুমতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুকুর খননের অনুমতি বর্তমানে জেলা প্রশাসক স্যারই দিবেন। সুতরাং আমি নতুন করে কাউকে অনুমতি দিতে পারিনা তবে কেউ অনুমতি ছাড়া অবৈধ পুকুর খনন করলে আমার কাছে অভিযোগ আসলে আমি আইনি পদক্ষেপ নিবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করতে না পারলেও একাধিক বিএনপির নেতা কর্মীরা ও তার নিকট থেকে আর্শীবাদ সালামি নিচ্ছেন। থেমে নেই সাংবাদিক ও প্রশাসন, অভিযোগ আছে ৩৩ লক্ষ টাকা সালামি দেওয়া হয়েছে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের দুই দিকে। সাংবাদিকদের ভাগে ১০ লক্ষ। সাংবাদিকদের আরেক পক্ষ সেই টাকা হাতে না পেয়ে তাদের কলরেকর্ড সহ সংবাদ চলমানের হাতে তুলে দেন সেই পুকুর খননের রহস্যময়ী লংকা কান্ড।

ঠিক কত কোটি টাকায় বিএনপি নেতা মিন্টু সেই পুকুর খননের দায়িত্ব নিয়েছেন সেটি নিয়ে কথা বলতে আওয়ামী লীগের কষ্টিপাথর কার্তিক সাহাকে ফোন করলে তিনি প্রথমে বলেন, আমরা পুকুর সংস্কার করছি। পরে আবার বলেন, আপনার সাথে আলাদা ভাবে দেখা করে কথা বলবে মিন্টু ভাই। এর পরে তিনি বিএনপি নেতা মিন্টুর সাথে বসতে বলেন। অবৈধ ভাবে পুকুর খনন নিয়ে কেন বিএনপি নেতা মিন্টুর সাথে বসতে হবে ? এমন প্রশ্ন নিয়ে শামসুর রহমান মিন্টু কে মুঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন তুলে নাই।

সরেজমিনে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর গেলে উঠে আসে শামসুর রহমান মিন্টুকে নিয়ে সাধারণ মানুষের গোলক ধাঁধা। প্রকাশ্যে মিন্টু বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও গোপন ক্যামারায় উঠে আসে স্থানিয়দের নানা মন্তব্য। সিরাজুল ও মিজান নামের ব্যক্তি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কালাম বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েও তাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে সালাম দিতে হয়েছে। বাগমারা অঞ্চলে শুধু পুকুর খননে সহায়তা করেই তিনি কয়েক শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন। সরকারি জায়গায় মাছের আড়ৎ মার্কেট নির্মান করে সেখানেও বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। স্কুলে নিয়োগ কলেজের প্রিন্সিপাল কে মারধর সবই ছিল কালাম এমপির দৃশ্যমান কার্যক্রম।

তাহেরপুর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর বলেন, যুবলীগ নেতা সোহেল ও জাহিদ প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চুক্তিতে পুকুর খননের কাজ করতেন। তিনি সাবেক সংসদ আবুল কালামের ক্যাশিয়ার হয়ে সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। কেউ প্রতিবাদ মুখি হলে তাকে অর্থ অথবা অস্ত্রের ভয়ভিতী দেখিয়ে নিশ্চুপ করে দিতেন। জানাগেছে, নুরুজ্জামাল নামের একজন অনলাইন সাংবাদিক তাহেরপুরে অবৈধ পুকুর ক্ষনণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে চাঁদাবাজ বলে তার গাড়ি ও ক্যামেরা ভাংচুর করে রক্তাক্ত জখম করেন আবুল কালাম আজাদ সহ সোহেল বাহিনীর লোকজন। আওয়ামী সরকারের পতনের পরে সাংবাদিক নুরুজ্জামান সেই ঘটনা নিয়ে রাজশাহীর আমলী আদালতে আবুল কালাম আজাদ সোহেল সহ পুকুর সিন্ডিকেটের ৬ সদস্যের নামে মামলা করেছেন।

বিএনপি নেতা মিন্টুর নামে তাহেরপুর অঞ্চলে নানা অভিযোগ, কলেজের অর্ধশতাধিক দোকান থেকে দোকান প্রতি ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা সালামি নেওয়ার গুরতর অভিযোগ উঠেছে তার নামে। গত ৮ মাসে টাকার মেশিন হয়ে কয়েক কোটি টাকার ম্যাজিক দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তার নামে। রাজশাহী জেলার দায়িত্ব পালন করা একটি গোয়েন্দা সংস্থার সুত্র বলছেন, ৫ আগস্টের পরে তাহেরপুরের বিএনপির মিন্টু নামের ব্যক্তি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ও পুকুর খননে চুক্তি হয়ে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করেছেন সেটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগত হয়েছেন।

শিঘ্রই বিএনপি নেতাদের চুক্তি নেওয়া অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে বিএনপির মত বড় রাজনৈতিক দল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কর্মীরা।

dailyalochitosangbad