নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতেই পুনরায় চালু হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে সারাদেশের ন্যায় সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে রাজশাহী দুর্গাপুরেও শুরু হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা।
এদিন সকাল ১০টা থেকে তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের ৬১টি জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয় যা দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রেখেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পরীক্ষা আয়োজন করেছে দুর্গাপুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সবশেষ ২০০৮ সালে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছিল। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় ২০০৯ সাল থেকে পিইসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বৃত্তি দেওয়া শুরু করলে আলাদাভাবে এই পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় আ’লীগ সরকার। ধংস করে দেয় শিক্ষা ব্যবস্থা।
এই বছর পরীক্ষা উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং আচরণবিধি প্রকাশ করেছে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে; অন্যথায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস হলে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে নির্ধারিত তথ্য ছাড়া অন্য কিছু লেখা যাবে না এবং ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করতে পারবে না এবং খসড়া কাজের জন্য উত্তরপত্রই ব্যবহার করতে হবে।
পরীক্ষাকালীন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, হলের ভেতর কথা বলা বা একে অন্যের উত্তরপত্র দেখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। উত্তরপত্রের কোনো পৃষ্ঠা পরিবর্তন বা নষ্ট করা যাবে না এবং পরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই কেবল হল ত্যাগ করা যাবে।
রুটিন অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নীতিমালা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সংখ্যা হবে সমানুপাতিক (৫০ শতাংশ হারে)। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এই পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে পরীক্ষার ২য় দিন ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উপজেলার বাজুখলসী স.প্রা.বি. কেন্দ্র ঘুরে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়।
কথা হয় কেন্দ্র সচিব মরিয়ম খাতুনের সাথে। তিনি বলেন,১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে ২টি ইউনিয়নের মোট ২০ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২২১ জন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এই কেন্দ্র থেকে ভাল ফলাফল হবে এটা তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
কথা হয় মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,দুর্গাপুর। তিনি বলেন, এই বছর উপজেলার ৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে এবং সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে । আমরা আশা করছি পূর্বের ন্যায় শিক্ষার মান ফিরে আসবে। রাজশাহী জেলার মধ্যে আমাদের উপজেলা ভাল ফলাফল করবে এটা তাঁর আত্মবিশ্বাস।

