বিশেষ প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী দুর্গাপুরে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছেন লায়লা নূর তানজু ( সহকারী কমিশনার ভূমি, দুর্গাপুর)। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর নিয়মিত ভাবে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আইনি প্রক্রিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড করছেন। ঠিক একইভাবে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন । নিচ্ছেন আইনি পদক্ষেপ, করছেন অর্থদণ্ড, দিচ্ছেন মামলা কোথাওবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দিচ্ছেন জেল। সবটায় সংশ্লিষ্ট আইনঃ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী। ফসলি জমি রক্ষার্থে কৃষকরা দেখছেন আশার আলো।
জানা যায়, ১১ ই জানুয়ারি বিকেল ৫.০০ মিনিটে উপজেলার কিসমত গনকৈড় ইউনিয়ন উজানখলসী পূর্ব পাড়া অবৈধভাবে মাটির টপসয়েল কাটায় পৃথক দুটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তিনি।
এই সময় ১ টি এস্কেভেটর(ভেকু) অকেজো করেন ও ব্যাটারি ধ্বংস করেন এবং মাটি কাটার সাথে যুক্ত ভ্যাকু চালক মো: সাইফুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম নামক দুইজনের প্রত্যেক কে ৫০,০০০ টাকা করে সর্বমোট ১,০০,০০০ টাকা জরিমানা করেন । জরিমানার টাকা ঘটনাস্থলে আদায় করেন তিনি । ভ্যাকু সহকারী অবশিষ্ট চারজনের বয়স ১৮ এর নিচে হওয়ায় ভবিষ্যতে আর এ ধরণের অপরাধ না করার শর্তে মুচলেকা নেন। অভিযুক্ত ২ ব্যক্তির নামে পৃথক ২ টি মামলাও করেন তিনি।
সূত্র বলছে, লাইলা নূর তানজুর এমন সাহসী ভূমিকা দেখে উপজেলার সকল স্তরের জনগণের ভিতরে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরছে। আবার পূর্বের ন্যায় দিগন্ত জুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ দেখা যাবে এটাই তাদের প্রত্যাশা।
কথা হয় লায়লা নূর তানজুর সাথে তিনি বলেন, কোথাও অবৈধ পুকুর খনন হলে তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান হচ্ছে এবং হবে । কৃষি জমি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি সৎ ও সাহসী হন তবে সাহস আপনা আপনি চলে আসে। আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডিসি স্যার সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। তাঁদের সাহসে আমার সাহস।

