নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
“দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর দুর্গাপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬।
দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা, প্রবীণদের সম্মাননা প্রদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ।
সভাপতির বক্তব্যে উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, "প্রবীণরা আমাদের পরিবার ও সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রবীণ যেন নিজেকে অবহেলিত মনে না করেন, সে জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
আ.ন.ম. রাকিবুল ইউসুফ বলেন, "প্রবীণদের কল্যাণ শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানসিক প্রশান্তি ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে নিয়মিত কার্যক্রম প্রয়োজন। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রবীণদের পাশে থেকে এ ধরনের সেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে কাজ করছে।"
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, "সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাবারের বিকল্প নেই। বয়স বাড়লেও সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত জীবনযাপন প্রবীণদের সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।"
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসাঃ তারজিনা খাতুন বলেন, "প্রবীণদের সুস্থতার জন্য পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।পরিবারের সদস্যদের উচিত প্রবীণদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া।"
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা বলেন, "একটি পরিবারের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেখানে শিশুদের পাশাপাশি প্রবীণদেরও যথাযথ সম্মান ও যত্ন দেওয়া হয়। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের পথচলার অন্যতম দিকনির্দেশনা হতে পারে।"
উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, "বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন প্রবীণদের সুস্থতার জন্য জরুরি।"
অনুষ্ঠানে অগ্রগামী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মোঃ রবিউল ইসলাম, পথচলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক আক্কাস আলী এবং কুষাডাঙ্গা মানব উন্নয়ন সংঘের পরিচালক শফিকুল ইসলাম (স্বপন) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবীণ ও নবীন ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
এই সময় প্রবীণ ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। সুবিধা ভোগীদের মধ্যে মাড়িয়ার আব্দুস সাত্তার, নামোদুর খালির সোনাই মিয়া, ক্ষীদ্রখলসীর আতাউর মোল্লা এবং ভবানীপুরের সেকেন্দার আলীসহ কয়েকজন প্রবীণ উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও যত্ন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি মানবিক, সহমর্মী ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রবীণদের নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৭-৯৩৮৪৮৪
০১৯১৩-৭২৭৬৯০
ই-মেইলঃ alaminhaque86@gmail.com