সম্পাদকীয়ঃ
জুলাইয়ের আকাশে সেদিন শুধু রোদের তাপ ছিল না, ছিল প্রতিবাদের উত্তাপও। ২০২৪ সালের ৮ জুলাই—একটি দিন, যখন হাজারো শিক্ষার্থী নিজেদের স্বপ্ন, অধিকার আর ভবিষ্যতের প্রশ্ন নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। "বাংলা ব্লকেড" কর্মসূচি যেন শুধু সড়ক অবরোধ ছিল না; ছিল ন্যায্যতার দাবিতে এক প্রজন্মের দৃঢ় উচ্চারণ।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক—সবখানেই প্রতিধ্বনিত হয়েছিল একই দাবি। ব্যস্ত শহর কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেলেও থেমে যায়নি শিক্ষার্থীদের প্রত্যয়। তাদের চোখে ছিল ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, কণ্ঠে ছিল ন্যায়বিচারের আহ্বান।
এই সময় ভিপি নুরুল হক নুর প্রকাশ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি সংকটের সমাধানে সংলাপ ও গণতান্ত্রিক পথের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
একই সময়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা নাজমুল হাসান সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা, কর্মসূচি সমন্বয় করা এবং আন্দোলনের দাবি জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মুখের মতো তাঁরাও একটি বৃহত্তর দাবির অংশ হয়ে ওঠেন।
৮ জুলাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ইতিহাস কেবল বড় বড় সিদ্ধান্তে নয়, সাধারণ মানুষের সাহসেও রচিত হয়। একটি দিনের দৃঢ়তা কখনও কখনও একটি জাতির ভবিষ্যৎ ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। তাই ৮ জুলাই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়; এটি অধিকার, সাহস, ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনার এক স্মরণীয় প্রতীক।
সময় এগিয়ে যায়, কিন্তু ইতিহাস তার গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোকে বয়ে নিয়ে চলে। ৮ জুলাই তেমনই একটি দিন—যে দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায্য দাবির পক্ষে উচ্চারিত কণ্ঠস্বর কখনও সহজে হারিয়ে যায় না; তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণার আলো হয়ে জ্বলে থাকে।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৭-৯৩৮৪৮৪
০১৯১৩-৭২৭৬৯০
ই-মেইলঃ alaminhaque86@gmail.com