নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে মাশতুরা আমিনা (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা,দুর্গাপুর,রাজশাহী) এসএসসি-২০২৬ এ হাতে নিয়েছেন নানামুখী পদক্ষেপ। তিনি বলেছেন, অটো পাশের দিন শেষ-মেধা ভিত্তিক বাংলাদেশ। তারঁ এই পদক্ষেপে প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা বাসির কাছে।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, এই বছরে উপজেলার ৫টি পরীক্ষা কেন্দ্র মোট ২১৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণের কথা থাকলেও অংশ গ্রহণ করেছে ২০৭৯ জন, ৫৪ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত।সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে ৫ টি কেন্দ্র। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সরেজমিনে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেখা যায়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পরীক্ষা চলছে। কথা হয় কেন্দ্র ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা মোঃ মেহেদী হাসান (উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা) সাথে। তিনি বলেন,এই কেন্দ্রে ১৪টি বিদ্যালয়ের ৫৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছে। ১৩ টি রুমে পরীক্ষা চলছে। ১৩ রুমে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে ইউএনও স্যারের নির্দেশে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশর ইতিহাসে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সর্বপ্রথম অটো পাশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০০০ সালে করোনা কালিন সময় পুনরায় অটো পাশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১-২৪ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় 'অটো পাস' বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মূল্যায়নের ফলে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পাস করলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয় না,ভিত্তি দুর্বল হওয়া,মেধার সঠিক মূল্যায়ন অভাব, উচ্চশিক্ষায় প্রভাব সহ কর্মক্ষেত্রে অযোগ্যতা যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটিয়েছে ।
বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে আর কোনো 'অটো পাস' বা পরীক্ষা বন্ধের সুযোগ থাকবে না। মেধা-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে, অতীতে নেওয়া অটো পাসের ফলে যে "শেখন ঘাটতি" বা শিক্ষার মানের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সংক্ষেপে, অটো পাস বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাস শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে বাধা সৃষ্টি করে এবং এটি কেবল বিশেষ পরিস্থিতি (যেমন মহামারী) মোকাবেলা করার সাময়িক সমাধান হতে পারে, নিয়মিত মূল্যায়ন পদ্ধতি হিসেবে এটি মানসম্মত শিক্ষার পরিপন্থী।
কথা হয় মাশতুরা আমিনার সাথে। তিনি বলেন,অটো পাশের দিন শেষ- মেধা ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সরকার নানা মূখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী ও ডিসি মহোদয়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রথম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যতিক্রমি এক উদ্দ্যোগ পরীক্ষা কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায়। যা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিবে পড়ালেখার কোন বিকল্প নেই।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৭-৯৩৮৪৮৪
০১৯১৩-৭২৭৬৯০
ই-মেইলঃ alaminhaque86@gmail.com