নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহী জেলার প্রতিটি উপজেলার অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আক্তার ।
চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ভাবে কতিপয় অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই, আইনকে তোয়াক্কা না করেই মূল্যবান ৩ ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে পুকুর খনন শুরু করে। এতে কৃষি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়তেই ডিসির কঠোর নির্দেশে মাঠে নামে প্রশাসন। শুরু হয় অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের অভিযান।
জেলা প্রশাসক অফিস সূত্রে জানা যায়,জেলার সব থেকে বেশি অবৈধ পুকুর খনন চলছিল দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে । বিভিন্ন জনের লিখিত অভিযোগ ও গোপন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনকে জেলা প্রশাসক কঠোর নির্দেশ দেন পুকুর বন্ধে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের।
উপজেলা প্রশাসনের অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩/২ অবৈধ পুকুর খনন চলছে জয়নগর ইউনিয়ন আনুলিয়া গ্রামে। সেখানে প্রায় ৯০ একর জমিতে খনন কার্য চলছে। একাধিক বার সেখানে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে এক্সকাভেটর(ভেকু) নিষ্ক্রিয় করে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা সহ নিয়মিত মামলাও হয়েছে।
তবুও থেমে নেই ভূমি খেকোদের চোর পুলিশ খেলা। বে-রশিক প্রশাসন নাছোড় বান্দা কোন ক্রমেই ছাড় দিতে রাজি নয়। লুকিয়ে রাখা ভেকু শকুনের চোখ দিয়ে খুঁজে বের করে নিষ্ক্রিয় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনুলিয়া গ্রামে যে পুকুর খনন চলছে তার সমস্ত অর্থের যোগানদাতা রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ওরুফে ভেকু কালাম। তার কালো টাকা সাদা করার দায়িত্ব পালন করছেন, তাহের পুর পৌরসভার হিসাব রক্ষক এরশাদ এবং সার্বিক সহযোগিতা করছেন আনুলিয়া গ্রামের জারজিশ হোসেন (সাবেক মেম্বার) প্রায় ৬০ একর জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বাকরুদ্ধ করে রাখছে। তবে কৃষকদের মাঝে আশা জাগাতে একাধিক বার অভিযান চালিয়েছেন এসি ল্যান্ড ও ওসি স্যার। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ইফতারির পূর্ব মুহূর্তে অভিযান চালিয়ে ২ টি ভেকু নিষ্ক্রিয় করেছেন বলে জানা তারা।
এই নিয়ে কথা হয় লায়লা নূর তানজু, সহকারী কমিশনার(ভূমি)। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একাধিক এক্সকাভেটর(ভেকু) নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা সহ নিয়মিত মামলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কৃষি জমির উর্বর টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০' অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া ফসলি জমির মাটি কাটলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক ২ লক্ষ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়াও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। আমরা আইনের রক্ষক, কেউ আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করলে আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৭-৯৩৮৪৮৪
০১৯১৩-৭২৭৬৯০
ই-মেইলঃ alaminhaque86@gmail.com