নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান (হাফিজ) আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী সরকারের আমলে নৌকার বৈঠা ধরে প্রধান শিক্ষক পদ দখল করার পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে ও এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, দোকানঘর কেলেঙ্কারি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এবং তার আওয়ামী ক্ষমতার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় দাপুটে অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সূত্র বলছে, হাফিজ ১৯৯৯ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব দেখিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দখল করার পর থেকে তিনি একক আধিপত্য বিস্তার করেন সেই প্রতিষ্ঠানে।
অভিযোগ রয়েছে, দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বানিজ্য, আয়-ব্যয় আত্মসাৎ, সম্পদ দখল এবং দোকানঘর কেলেঙ্কারি করে তিনি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এর পাশাপাশি তার কর্মকাণ্ড মাফিয়া ও সন্ত্রাসমূলক ভঙ্গি ধারণ করেছিল, যা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, হাফিজের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হয়েছে একাধিক পরিবার। পারিলা গ্রামের হাজী মোঃ শামসুল হক অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনের পর হাফিজ ও তার অনুসারীরা তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তার পরিবারের উপর এবং তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেছেন সেই সময়। পরে তাদের জমি দখল করা হয়েছে এবং সেই পরিবারকে গ্রামে ফিরতে আবার ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে আওয়ামী মাফিয়া দলের গ্যাংস্টার হাফিজ কে। সেখানেই থেমে নেন তার চাঁদাবাজি, ২০১৮ সালে তার ছোট ছেলের থেকে ১৮.৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন শিক্ষক হাফিজ ওরফে মাফিয়া মাস্টারমাইন্ড হাফিজ।
দাওকান্দি গ্রামের আলতাফের মেয়ে জামাই বাগলপাড়া গ্রামের হাসান বলেন, সভা কার্য বিবরণ বহির মাধ্যমে ৩ শত টাকার স্ট্যাম্প করে মোট ২,৬৭,১৮৬/= টাকার বিনিময়ে ১৬.১১.২০১২ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানের একটি দোকান ঘর ভাড়া দেন হাফিজ । পরবর্তীতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাকে দোকান না দিয়ে তার ভাতিজা শাহানুরকে দোকান দেন। এতে আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হই। আজ পর্যন্ত হাফিজ আমার টাকা ফেরত দেয়নি । বর্তমানে আমি আর্থিক অনটনের পড়েছি। তাকে বারবার বলেলেও সে টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা করছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।
উল্লেখ্য, হাফিজুর রহমান হাফিজের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাট কান্ডের বিষয় নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার পরেও তিনি অদৃশ্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ প্রতিষ্ঠানের বহাল থেকে জন্ম দিচ্ছেন নানা অপকর্মের। এ বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তেমন গুরুতর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।হাফিজকে নাম মাত্র শোকজ করা হলেও, স্কুল ও এলাকার আয়‑ব্যয় ও সম্পদের সঠিক হিসাব নেওয়া হয়নি।
তার এত শর্ত অভিযোগ ও লুটপাট কান্ডের বিষয় জানতে চেয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিনকে মুঠো ফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর আমি তাকে শোকজ করেছিলাম। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম পাঁচ মাস তিনি বিদ্যালয়ের আয় ব্যাংকে জমা দেননি। পরে ওই আয় একসাথে জমা দেওয়ায় শোকজ প্রত্যাহার করা হয়। তবে পূর্ববর্তী বছরের আয়‑ব্যয় সম্পর্কে আমার জানা নেই।
স্থানীয়রা বলছেন, তার বিরুদ্ধে শোকজ বা সাময়িক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তারা চাইছেন, দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ বছরের আয়‑ব্যয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছ ও স্বতন্ত্র ভাবে তদন্ত করা হোক । আওয়ামী লীগের দোসর প্রধান শিক্ষক এই হাফিজুর রহমান হাফিজকে অতি শীঘ্রই চাকুরি চ্যুত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
মোবাইল নাম্বারঃ ০১৭১৭-৯৩৮৪৮৪
০১৯১৩-৭২৭৬৯০
ই-মেইলঃ alaminhaque86@gmail.com